নবী সা. অবমাননার শাস্তি | শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান

নবী সা. অবমাননার শাস্তি | শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান

রাসূল (সা.)-এর ব্যাপারে কটূক্তিকারীদের ব্যাপারে ইমামগণের মতামত কী?  অথবা বিশ্বনবি (সা.) কে নিয়ে অবমাননারকর বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের মতামত কী? নবী সা. অবমাননার শাস্তি? শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান?

অভিযানে ইলিশ মাছ ধরে বিক্রি করা কি জায়েজ? 

নবী সা. অবমাননার শাস্তি | শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান

ভূমিকা : ইসলাম সার্বজনীন ধর্ম। ইসলামের ধর্ম বিশ্বাসও সার্বজনীন এবং অনুষ্ঠিত ইবাদতও সার্বজনীন। তাই ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের ধারক ও বাহক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতও সার্বজনীন। আমরা যখনই মহানবি (সা.)-এর উপস্থিতি দ্বীনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের দিকে তাকাই তখন আমাদের সামনে থেকে অন্ধকারের কুহেলিকা বিলীন হয়ে যায়। তাছাড়া মহানবি (সা.)- এর রিসালাতের সাক্ষ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাঁকে সম্মান করা। কারণ তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মানবজাতির নেতা এবং সকল নবি রাসূলদের সর্দার ।

নবী সা. অবমাননার শাস্তি
নবী সা. অবমাননার শাস্তি

মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্মান ও মর্যাদা স্বয়ং আল্লাহই নির্ধারণ করেছেন। তাই ইচ্ছা করে তাঁর মর্যাদা কেউ কমাতে পারবে না যতই বিরুদ্ধবাদীররা নবিকে নিয়ে কটূক্তি এবং অবমাননাকর কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকুন না কেন। এজন্যই ইসলামের ইমামগণ নবী (সা.)-এর কুটুক্তি কারীদের প্রতি কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন।

বিশ্বনবি (সা.) কে নিয়ে কটূক্তিকারীর ব্যাপারে ইমামগণের মতামত

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে রাসূল (সা.)-এর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধির বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বপ্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে রাসূল (সা.)-এর মর্যাদা ও সম্মান হানির বিষয়েও কঠোর শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইসলামের সম্মানীত ইমামগণ ও পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্যাস থেকে জ্ঞানগর্ভ মতামত প্রদান করেছেন। নিম্নে রাসূল (সা.) কে নিয়ে কটূক্তিকারীদের শাস্তির বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত আলোচনা করা হলো :

হানাফি মাযহাবের মতামত

হানাফি মাযহাবের মতে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহকে গালি-গালাজ করবে সে অবশ্যই মুরতাদ ৷ ইসলামি শরিয়তে একজন মুরতাদদের যে বিধান তার ব্যাপারে ও সেই বিধান প্রযোজ্য হবে। মুরতাদদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয় তার ব্যাপারে ও সেই আচরণই করা হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে যারা এ ফতোয়া বর্ণনা করেছেন এবং এ মতের সাথে যারা একমত পোষণ করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মালেক ইবন আনাস, ইমাম লাইস, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ইমাম ইসহাক, ইমাম শাফেঈ এবং কাজী আয়াজ (রহ.) প্রমুখ।

এ প্রসংগে কাজী আবুল ফজল বলেন, এ প্রসঙ্গে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) বলেছেন- ‘ এ ধরনের লোকদের তাও- গ্রহণযোগ্য হবে না। (সূত্র : আল বাহরুর রায়েক, ১৩ খণ্ড, পৃ. ৪১৩)

(ক) ‘ফাতওয়ায়ে শামীর’ বক্তব্য : হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ফাতওয়ায়ে শামী’তে বলা হয়েছে— যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)। কটাক্ষ বা গালি-গালাজ করবে তাদের হত্যা করার ব্যাপারে সমস্ত ওলামায়ে কিরাম একমত। (সূত্র ফাতাওয়ায়ে শামী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪১৭)

(খ) ‘ইমাম কাজী আয়াজ’এর বক্তব্য : হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম কাজী আয়াজ (রহ.) বলেন- উম্মাতের ওলাম কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে গালি দেয়া বা তাঁকে অসম্মান করার শাস্তি হচ্ছে হত্যা করা। (সূত্র : সারি মাসলুল, ১ম খণ্ড, পৃ.০৯)

নবি অবমাননার শাস্তি সম্পর্কে শাফেঈ মাযহাবের মতামত

শাফেঈ মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম ইবনুল মুনযির (রহ.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি সরাসরি রাসূলুল্লাহ ( কে গালি-গালাজ করবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব এবং এ ব্যাপারে সকলেই একমত।’

(সূত্র : কিতাবুল ইজমা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫)

(ক) ‘ইমাম আবু বকর আল ফারেসী’র বক্তব্য : শাফেঈ মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু বকর আল ফারেসী (রহ.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে এমন কোনো গালি দেয় যাতে অপবাদের বিষয় রয়েছে সে স্পষ্ট কুফুরি করলো। সে তাওবা করা সত্ত্বেও তার হত্যার বিধান রহিত হবে না। কেননা রাসুল (সা.) কে অপবাদ দেয়ার শাস্তি হলো হত্যা যা তাওবা করা সত্ত্বেও রহিত হয় না।’ (সূত্র : আল-ইজমা, ইমাম আবু বকর আল ফারেসী)

নবী সা. অবমাননার শাস্তি
নবী সা. অবমাননার শাস্তি

শাতিমে রাসূূল সম্পর্কে মালেকী মাযহাবের মতামত

মালেকী মাযহাবের বক্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘কোনো মুসলমান যদি রাসুল (সা.) কে কটাক্ষ বা গালি-গালজ করে তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে। তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি কোনো কাফের ঐ একই অপরাধ করে এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করতে চায় সেক্ষেত্রে দুটি মতামত রয়েছে।

একটি হলো- সে ইসলাম কবুল করলে তাকে ক্ষমা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, যদি ধরা পড়ার পূর্বেই নিজে স্বেচ্ছায় ধরা দেয় এবং তাওবা করে।

অপরটি হলো— না, তাকে ক্ষমা করা হবে না বরং হত্যা করা হবে। (সূত্র: আত তালকীন ফী ফিকহিল মালিক, ২য় খ০, পৃ. ৫০৭)

আল কাফী ফী ফিকহি আহলিল মাদিনাহ কিতাবের বক্তব্য

আল কাফী কী ফিকহি আহলিল মানিনাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে— ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে গালি-গালাজ করবে সে মুসলমান হোক বা জিম্মি (কাফের) হোক তাঁকে সর্বাবস্থায় হত্যা করা হবে। এ দুটি মতই ইমাম মালেক (রহ.) থেকে ইবনুল হাকাম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।’

 ‘আয যাখীরাহ ফী ফিকহিল মালেকী কিতাবের বক্তব্য

আয-যাখীরাহ ফী ফিকহিল মালেকী কিতাবে বলা হয়েছে— ‘যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহকে অথবা আল্লাহর রাসূলকে অথবা অন্যকোনো নবি-রাসূলকে গালি দেয় তাকে ইসলামের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী হত্যা করা হবে। সে যদি তাওবা করে তা সত্ত্বেও তার এ শাস্তি রহিত হবে না ।

নবি অবমাননা সম্পর্কে নাসিরুদ্দীন আল বানীর বক্তব্য

ইমাম নাসিরুদ্দীন আল বানী বলেন- শায়খ বিন বায বলেছেন- মানুষ কখনো মুখে অস্বীকার না করে ও বিভিন্ন কারণে ইসলাম থেকে বাহির হয়ে কাফের হয়ে যায়। যার বিস্তারিত বিবরণ আলেমগণ নিজ নিজ কিভাবের ‘মুরতাদের বিধান’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো, ইসলামকে নিয়ে অথবা রাসূল (সা.) কে নিয়ে কটাক্ষ করা অথবা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল অথবা আল্লাহর কিভাব অথবা আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়তের কোনো বিষয় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কেননা আল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন-
অর্থাৎ, ‘বল! তোমরা কি আল্লাহর সাথে ও আল্লাহর আয়াত ও আল্লাহর রাসূলের সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও উপহাস করছো? তোমরা কোনো ওজর পেশ করোনা । নিশ্চয়ই তোমরা ইমান আনার পর কুফরি করছো।’ (সূরা তাওবা : ৬৫-৬৬)

নবী সা. অবমাননার শাস্তি

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাবুক যুদ্ধে এক বৈঠকে জনৈক ব্যক্তি বলল: আমাদের এসব ক্বারীদের মত অধিক পেটুক ও অধিক মিথ্যুক এবং শত্রুদের সাথে মুখোমুখীর সময় এরূপ কাপুরুষ আর দেখিনি। (এ দ্বারা সাহাবায়ে কিরাম ও নাবী (সাঃ) উদ্দেশ্য নেয় )।

জনৈক সাহাবী বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছ! তুমি একজন মুনাফিক। অবশ্যই আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জানিয়ে দেব। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এ খবর পৌঁছার পূর্বেই এ আয়াত নাযিল হয়। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন: আমি লোকটিকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উটনীর লাগাম ধরে পাথরের সাথে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে চলতে দেখলাম। আর সে বলছিল: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমরা এসব কথা দ্বারা খোশগল্প ও খেল-তামাশা করছিলাম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আমরা রাস্তা অতিক্রম করার জন্য এসব কথা বলছিলাম। (তাফসীর তাবারী, ১৬৯১২, ইমাম মুসলিম সহীহ মুসলিমে ও ইমাম বুখারী তার তারিখে বর্ণনা করেছেন।)

আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা কুফরী। কখনো একজন মুসলিম এসব কাজ করতে পারে না এবং মেনেও নিতে পারে না।

সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন অথবা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল যা শরীয়তসিদ্ধ করেছেন তা কেউ অপছন্দ করলে কাফির হয়ে যাবে। তাই কেউ সালাত, যাকাত বা সিয়াম বা হজ্ব অথবা একাধিক বিবাহের শরয়ী প্রবর্তনকে অপছন্দ বা ঘৃণা করলে কাফির হয়ে যাবে। এটা ঈমানের বিপরীত। কেননা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলকে ভালবাসা আবশ্যক। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলকে ভালবাসবে না সে কাফির। সকল কিছুর ওপর আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের ভালবাসাকে প্রাধান্য দিতে হবে। অতএব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা কিছু নিয়ে এসেছেন অথবা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কিতাব আকারে যা নিয়ে এসেছেন তা কেউ ঘৃণা করলে বা অপছন্দ করলে অথবা আল্লাহকে বা আল্লাহ ও রাসূল এবং ধর্মের কোন বিধান নিয়ে ঠাট্টা করলে কাফির-মুরতাদ হয়ে যাবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(ذٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوْا مَآ أَنْزَلَ اللّٰهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ)‏

কারণ, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা তারা অপছন্দ করছে; তাই আল্লাহ তাদের আমল বরবাদ করে দিয়েছেন। (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৯)

নবিকে গালি দেয়ার শাস্তি সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য

ইবনে তাইমিয়া বলেন, ‘ইমাম আহমদ (রহ.) একাধিক জায়গায় বলেছেন, যে সকল লোক রাসূল (সা.) কে গালি-গালাজ করে অথবা কটাক্ষ করে তারা মুসলমান হোক বা কাফের হোক তাদেরকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে। আমি মনে করি তাদেরকে তাওবার সুযোগ্য না দিয়ে হত্যা করা হোক।’ (সূত্র: সারিমুল মাসলুল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০)

উসুলুস সুন্নাহ কিতাবের বক্তব্য

‘সঠিক সিদ্ধান্ত হলো এই যে, জিন্দীক মুনাফেক এবং যারা রাসূল (সা.) কে অথবা সাহাবিদের গালি দেওয়া অথবা আল্লাহ, আল্লাহর কিতাব অর্থবা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এবং যারা জাদুকর এবং যাদেরকে মুরতাদ হওয়া বারংবার প্রমাণিত এদের সকলের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হলো, কোনো প্রকার তাওবা করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাদের হত্যা করতে হবে যাতে তাদের অন্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং অন্যেরা এ ধরনের অন্যায় করতে সাহস না পায় ।

 ‘আদ দুরারুস সাল্লিয়্যাহ’ কিতাবের বক্তব্য

‘আদ দুরারুস সানিয়্যাহ নামক কিভাবে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.)-এর বর্ণিত ‘ইমান ভঙ্গের কারণসমূহ’ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনের কোনো বিষয়কে নিয়ে অথবা সাওয়াবের বিষয় নিয়ে অথবা শাস্তির বিষয় নিয়ে উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কাফির হয়ে যায়।’ (সূত্র : ২য় খণ্ড, পৃ. ২৬৬)

নবী সা. অবমাননার শাস্তি | শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান
নবী সা. অবমাননার শাস্তি | শাতিমে রাসুল সম্পর্কে শরিয়ার বিধান

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) এবং রাসূলের সুন্নাহকে অনুসরণ প্রতিটি মুমিনের অপরিহার্য কাজ। আর এটা না করে কেউ যদি রাসূল (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহকে কটাক্ষ করে কিংবা গালি দেয় কিংবা অবমাননা করে তাহলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে পাপীষ্ট। তার ব্যাপারে ইমামদের মতামত হলো- তাকে হত্যা করা। তাই বলা যায়– কুরআন ও হাদিস, ইজমা দ্বারা প্রমাণিত হলো, যারা আল্লাহর রাসুল (সা.) কে নিয়ে উপহাস করে, কৌতুক করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, ব্যঙ্গচিত্র অংকন করে তাদের একমাত্র শান্তি মৃত্যুদণ্ড। এ ব্যাপারে কোনো ইমামের দ্বিমত নেই।

নবী সা. অবমাননার শাস্তি ৷ নবী সা. অবমাননার শাস্তি

লেখকের ফেসবুক আইডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *