সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় | নিজের ক্যারিয়ার গড়ার উপায় | ক্যারিয়ার ও সংগঠন

সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় | নিজের ক্যারিয়ার গড়ার উপায় | ক্যারিয়ার ও সংগঠন

 

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ ৷ সুপ্রিয় পাঠক! আজ আমরা কথা বলব ক্যারিয়ার নিয়ে ৷ সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় ৷ নিজের ক্যারিয়ার গড়ার উপায় ৷ ক্যারিয়ার ও সংগঠন ৷ আমরা বর্তমানে নিবন্ধে বিস্তারিত এ বিষয়ে আলোকপাত করার প্রয়াস চালাবো ইনশাআল্লাহ ৷ শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন ৷ পড়ুন ৷ নিজের ক্যারিয়ার গঠনে আত্ম উদ্যোগী হোন ৷

 

[box type=”shadow” align=”” class=”” width=””]ক্যারিয়ার কী?[/box]

ক্যারিয়ার হচ্ছে যোগ্যতা অর্জনের নাম ৷ অভিধানে ক্যারিয়ার শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে ৷ উন্নতি ৷ জীবিকা অর্জনের উপায় ৷ মঞ্জিলে পৌঁছার মাধ্যম ৷ বৃত্তি ৷ পেশা ৷ জীবনধারা ৷ কর্মজীবনের বৃত্তি নির্ধারণ ইত্যাদি ৷

অন্যকথায় ক্যারিয়ার হচ্ছে জীবনে উন্নতি লাভ করা ৷ জীবিকার্জনের উপায় ৷ দ্রুতি, বেগ, উন্নতি ৷ বৃত্তি, পেশা ৷ অর্থাৎ পেশাগত জীবনে উন্নততর অবস্থান তৈরি করা ৷ কেউ কেউ ক্যারিয়ারকে এভাবে সংঙ্গায়ীত করেছেন, ক্যারিয়ার হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে কর্মজীবনের ধারা প্রক্রিয়া ৷ কারো কারো ভাষায় জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য সামনে রেখে জীবন উন্নত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকেই ক্যারিয়ার বলে ৷

একজন মুসলিম তরুণের কাছে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য আখিরাতে সফলতা তাই মুসলিম তরুনেরা শুধু দুনিয়ায় সফলতা লাভের জন্য ক্যারিয়ার গঠন করে না আখিরাতের সফলতা লাভের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দুনিয়ায় ক্যারিয়ার গঠনের চেষ্টা করে তাই মুসলিম তরুণ সমাজের কাছে ক্যারিয়ার হচ্ছে দিনের দিক থেকে মানের শীর্ষে পৌছার সাথে সাথে নিজের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে সহ ক্ষেত্রে যোগ্যতার শীর্ষে ওঠার সুপ পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো

[box type=”shadow” align=”” class=”” width=””]ক্যারিয়ার গঠনের উদ্দেশ্য[/box]

ক্যারিয়ার গঠনের উদ্দেশ্য
ক্যারিয়ার গঠনের উদ্দেশ্য

পাঠক! কেউ কেউ নিজ আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য ক্যারিয়ার গঠন করেন ৷ তারা আত্মপূজারী হন ৷ তাদের কাছে নিজের চাহিদা নিজের প্রয়োজনীয় বড় হয়ে থাকে ৷ তারা মানবতা ও মুসলিম উম্মার জন্য কোন কিছু করার মানসিকতা রাখেন না ৷ যদি কখনো দেখা যায় তারা দেশ ও জাতির জন্য কিছু করে তার পেছনেও আত্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকে ৷

এই কারণে তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে আসীন হলেও নিজ স্বার্থের দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে পারেন ৷ নিজের সুখের জন্য জনগণের সুখের কথা ভুলে যেতে বা উপেক্ষা করতে দ্বিধা বোধ করেন না ৷

আকাশের চাঁদ ও সূর্যের কিরণ দল মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কল্যাণকর ৷ সকলেই চাঁদের আলো উপভোগ করতে পারেন ৷ চাঁদ যেমন ভাবে কোন দলের নয় ৷ তেমনি সমাজের প্রতিভাবান মানুষের প্রতিভা আল্লাহ তাআলা শুধু ব্যক্তি বা দলের জন্য ব্যয় করার জন্য দান করেননি ৷ আল্লাহ তাআলা সকল ধর্মের সকল বর্ণের সকল ভাষাভাষী মানুষের মানবিক কল্যাণ সাধন ও আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থাকে বিজয়ী আদর্শ রূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিবাদ দান করেছেন ৷ তাই মেধাবী ব্যক্তিদের চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করতে হবে ৷ এবং নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হবে আমার মেধা কি শুধু আমার সুখ, শান্তি, রুটি রোজির কাজে ব্যয় হচ্ছে? না সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে?

প্রত্যেক মুসলিম তরুণকে মানবতার কল্যাণে অবদান রাখার জন্য মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে ৷ কারণ মুসলমানদের আল্লাহ তায়ালা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য সৃষ্টি করেছেন ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন ৷

‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত করা হয়েছে ৷ তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও অন্যায় কাজ থেকে লোকদের বিরত রাখো ৷ এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনো ৷’

এই আয়াতে নাস শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে ৷ এ থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুসলিম তরুণ শুধু নিজের কল্যাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেনা ৷ তাকে মানবতার কল্যাণে ও সমাজ সংস্কারে ভূমিকা পালন করতে হয় ৷ এবং উক্ত কাজে মেধা ও যোগ্যতার সর্বোত্তম বিনিয়োগ করতে হয় ৷

ক্যারিয়ার গঠন ও প্রতিভা বিকাশে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, সংগঠন ও রাষ্ট্রের ভূমিকা

সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় | নিজের ক্যারিয়ার গড়ার উপায় | ক্যারিয়ার ও সংগঠন
সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় | নিজের ক্যারিয়ার গড়ার উপায় | ক্যারিয়ার ও সংগঠন

প্রতিভা বিকাশে ব্যক্তিকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। তবে ব্যক্তির সাথে পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। তবে সমাজ বা রাষ্ট্র মেধা বিকাশের পথ সুগম করে দিতে পারে, মেধার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সাধন করতে পারে না। মেধা বিকাশের মূল দায়িত্ব ব্যক্তিকেই পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে সমাজ ও ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব ওতপ্রােতভাবে জড়িত।

যেমন, কোনাে একটি ফুলবাগানের মালী পানি ঢেলে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারে, কিন্তু মালী ইচ্ছা করলেই ফুল ফোটাতে পারে না। আবার মালীর পরিচর্যার অভাবে অনেক ফুল অকালেই ঝরে পড়ে যায়। তেমনিভাবে রাষ্ট্র ইচ্ছা করলেই কারাে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে না। রাষ্ট্র বা সমাজ মেধা বিকাশের পথ সহজ করে দিতে পারে। ব্যক্তি মেধা বিকাশে আন্তরিক হলে সমাজ বা রাষ্ট্রের সহযােগিতা তার মেধা বিকাশে সহায়ক হয়। একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মেধা বিকাশের চারটি স্তর রয়েছে :

১. শৈশব ও কৈশাের :

শিশু বয়স থেকে উত্তমভাবে তত্ত্বাবধান না করার কারণে অনেক শিশুর মেধা বিকশিত হতে পারে না। শিশুদের মেধা বিকাশে পিতা-মাতা ও রাষ্ট্রের ভূমিকাই বেশি। কারণ সে বয়সে ভালাে-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ বােঝার বয়স শিশুর হয় না। এই সময় স্কুল শিশুর প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তরে কোনাে শিশুর কী ধরনের মেধা আছে তা অনুসন্ধান করতে হয়।

২. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর :

এই স্তরের ছাত্রছাত্রীদের মেধা পরিষ্কারভাবে ফুটে
ওঠে। এই স্তরের ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশে উদ্দীপনা দিতে হয় এবং সহযােগিতা
করতে হয়।

৩. গ্রাজুয়েশান/বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় :

এই পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধা ও ঝোঁকপ্রবণতার আলােকে পড়ার সুযােগ দিতে হয়।

৪. ছাত্রজীবন শেষে কর্মজীবনের সূচনা :

এই স্তরে মেধার আলােকে চাকরি/পেশা গ্রহণের সুযােগসহ সার্বিক সহযােগিতা করতে হয়। এক্ষেত্রে একেক স্তরে একেক ধরনের ভূমিকা পালন করতে হয়। নিচে এ সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে :

প্রতিভা বিকাশে ব্যক্তির ভূমিকা

প্রতিভা কী? বৈজ্ঞানিক এডিসনের মতে,

প্রতিভা হচ্ছে এক ভাগ প্রেরণা আর নিরানব্বই ভাগ পরিশ্রম ও সাধনা।

এ কারণে সেপলার বলেন,

প্রতিভা বলতে কিছু নেই। সাধনা করলে সিদ্ধিলাভ একদিন হবেই। তাই প্রতিভা মানে অপরিসীম পরিশ্রম।

সবাই সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী : প্রত্যেক মানুষের মধ্যে মেধা লুক্কায়িত আছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
الناس معادن معادن الذهب والفضة .
“মানুষ স্বর্ণ ও রূপার খনির মতাে।”

তবে স্বর্ণ ও রূপার খনির মধ্যে যেমন তারতম্য আছে অনুরূপভাবে সকল মানুষের প্রতিভার মধ্যেও তারতম্য আছে। এ কারণে সকলের সৃজনক্ষমতা সমান নয়। স্বর্ণ ও রূপার খনি কাজে না লাগিয়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখলে খনির অস্তিত্ব সম্পর্কে বােঝা যায় ৷ যারা প্রতিভা কাজে লাগান তারাই প্রতিভাধর হিসেবে যশস্বী হন। প্রত্যেকের মধ্যে যে রত্নতুল্য প্রতিভা রয়েছে তা হচ্ছে :

  • ১. চিন্তাশক্তি (Thinking power),
  • ২. ইচ্ছাশক্তি (Will power)
  • ৩, মননশক্তি (Power of your soul)
  • 8. Paris (Physical strength or working capacity)।

এসব প্রতিভা মূলত লুক্কায়িত আছে-

  • ক, মস্তিষ্কে (In the brain) ,
  • খ, মনে (In the mind ),
  • গ. আত্মায় (In the soul),
  • ঘ, দেহে (In the body)। যিনি উপরিউক্ত প্রতিভাসমূহ যথাযথভাবে কাজে লাগান তিনিই জগতে যশস্বী হয় পারেন।

প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র বিস্তৃত—যেকোনােটি বেছে নিন

পৃথিবীতে এ বিকাশের ক্ষেত্র অনেক। ইমাম ইবনে জারীর তাবারী, ইবনে কাসার তাফসীরশাস্ত্রে অবদান রেখে বিশ্বে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। ইমাম আবু হানিফ, মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ফিকহশাস্ত্রে অবদান রেখে বিশ্বে এত বেশি পরিচিত। ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম প্রমুখ হাদীসশালে রেখে বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন। মুজাদ্দেদে আলফে সানী, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, সাইয়েদ কুতুব, হাসান আল বান্না প্রমুখ ইসলাম। আন্দোলন করে বিশ্বের সর্বত্র আলােচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আল্লামা ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল, ফররুখ আহমদ সাহিত্য রচনা করে এত সুপরিচিত। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি, মুহাম্মদ বিন কাশিম রাজ্য জয় করে ইতিহাসে বরেণ্য হয়ে আছেন। ক্রিকেট খেলে ইমরান খান ও শচীন টেন্ডুলকার প্রমুখ খ্যাতি অর্জন করেছেন ৷ এভাবে একেকজন একেক ক্ষেত্রে অবদান রেখে বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে আছেন ৷ আপনাকে ও আপনার মেধা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

প্রতিভা বিকাশে ব্যক্তিকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে

প্রত্যেকের মেধা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া আমানত। এই আমানতের সঠিক ব্যবহার করার প্রধান দায়িত্ব ব্যক্তির উপর। ব্যক্তি আগ্রহী ও কমিটেড না হলে অন্য কেউ তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে দিতে পারে না। ব্যক্তির মধ্যে যদি এই অনুভূতি থাকে যে, আমাকে মেধা বিকশিত করতেই হবে তাহলে অন্যদের সহযােগিতা পাওয়া সম্ভব। আর ব্যক্তি নিজেই উদাসীন হলে কেউ তার প্রতিভা বিকাশে সহযােগিতা করতে এগিয়ে আসে না।

সমালােচনায় সময় অপচয় না করে প্রতিভা বিকাশে মনােযােগী হােন

কোনাে কোনাে মানুষের স্বভাব অন্যের সমালােচনা করা, নিজের সমালােচনা সহ্য না করা। কিন্তু আপনি নিজের সমালােচনা নিজে করুন, অন্য থেকে উপদেশ গ্রহণ করুন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক মুসলিম তরুণ সব সময় সমালােচনায় লিপ্ত থাকেন। কখনও মুসলিম বিশ্বের আর কখনও নিজ পরিবার, সমাজ, সংগঠন বা রাষ্ট্রের সমালােচনায় লিপ্ত থাকেন।

তাদের সমালােচনার ভাষা নিম্নরূপ : মুসলিম বিশ্বে বড় কোনাে বিজ্ঞানী নেই, সাহিত্যিক-গবেষক কিছুই নেই। সংগঠনের সমালােচনা করে বলেন, সংগঠনের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নেই। প্রশাসন, মিডিয়া, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, বুদ্ধিজীবী মহলে প্রভাব নেই ইত্যাদি। তাদের সমালােচনার বিষয়বস্তুর বাস্তবতা নিয়ে আমার মন্তব্য নেই। মুসলিম বিশ্ব কিংবা সংগঠনের প্রতি তাদের আন্তরিকতা সম্পর্কেও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

কিন্তু যখন মেধাবী অনেক মুসলিম তরুণকে মুসলিম বিশ্ব কিংবা সংগঠনের নেতৃত্বের সমালােচনায় সময় অপচয় করতে দেখি অথচ নিজের জীবন গঠনের ক্ষেত্রে উদাসীন তখন খারাপ লাগে। আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম উম্মাহর একজন। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। সামষ্টিকভাবে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি মুসলিম সে জন্য কতটুকু অবদান রেখেছি তা-ই আমার আত্মপর্যালােচনার বিষয় হওয়া দরকার ৷ অন্যরা কতটুকু অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে সে সম্পর্কে ইতিবাচক আগ্রহ পোষণ করা ৷

কিন্তু অন্যদের সমালােচনা করলেই নিজ দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সাথে লক্ষ্য করি, অনেক মুসলিম তরুণ সমালােচনায় যত সময় অপচয় করেন ৷ যদি নিজের জীবনের টার্গেট নির্ধারণ করে কাজে লাগাতেন ৷ তাহলে অন্তত একটি ক্ষেত্রে একজন লোেক তৈরি হতাে। তিনি যে ঘাটতির কথা বলছেন ও সে ঘাটতি পূরণ হতাে। কারণ প্রত্যেক মুসলিম তরুণ যদি একেক ক্ষেত্রে সবে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করেন তাহলেই হয়তাে মুসলিম উম্মাহর যােগ্যতা পূরণ হবে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, সমালােচনা করে সময় যায়, যােগ্য লােক তৈরি হয় না। তাই প্রত্যেককে অপরের সমালােচনার জের জীবন গঠন করার জন্য দায়িত্বশীল হতে হবে ৷

মনে করুন আপনার দৃষ্টিতে প্রচার মাধ্যমে আমাদের যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের অভাব আপনি অনুভব করছেন। আপনার সাংবাদিকতার হবি আছে। এখন আপনি যদি একজন ভালাে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হন, তাহলে দশ বছর পর আপন পরিকল্পনায় কমপক্ষে আরও দশজন সাংবাদিক তৈরি হয়ে যাবে। তখন আপনারাই একটা পত্রিকা বের করে পত্রিকার অভাব মােচনে কিছুটা ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

কেউ দেখলেন এনজিওগুলাে যেভাবে কাজ করছে তার মােকাবিলায় একটা কিছু করা দরকার। এখন কেউ যদি ১০-১৫ বছরের একটা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেন, আর প্রচেষ্টা চালান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, তাহলে একটা এনজিও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। কেউ দেখলেন আমাদের আরও ভালাে আলেম দরকার। তারা যদি মাদরাসার ছাত্রদের একটা অংশকে টার্গেট নিয়ে ভালাে আলেম বানাবার চেষ্টা করেন তাহলে কিছু আলেম তৈরি হবে। কারাে দৃষ্টিতে আমাদের এখনও অনেক সাহিত্য দরকার। শিশুসাহিত্য, সাধারণ মানুষের উপযােগী সাহিত্যের অভাব আপনি উপলব্ধি করছেন। আপনার যদি প্রকাশনার অভিজ্ঞতা থাকে, ভালাে প্রকাশনা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য প্রকাশে হাত দিতে পারেন।

কারাে দৃষ্টিতে সরকারি প্রশাসনে ঢােকা জরুরি। আপনার যােগ্যতা থাকলে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসনে ঢােকার চেষ্টা করুন এবং আপনার জানামতে যাদের এ ধরনের যােগ্যতা আছে তাদের উৎসাহিত করুন, সহযােগিতা করুন। এভাবে যাদের যােগ্যতা আছে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নেওয়া এবং নিজ নিজ প্রতিভা বিকাশে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

আমাদেরকে অন্যের সমালােচনার পরিবর্তে নিজের ভূমিকা নিয়ে আত্মপর্যালােচনা উচিত। হতাশায় বা সমালােচনায় সময় অপচয় না করে প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে আমি নিছক সমালােচক হবাে না, সময়ের দাবি পূরণে নিজের মেধা ও যােগ্য বিকাশ সাধন করবাে এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দীনের প্রয়ােজনে তা কাজে লাগাবো ৷

আপনার জন্য আরও একটি দারুণ লেখাঃ বক্তৃতা শেখার কৌশল

ক্যারিয়ার গঠন ও প্রতিভা বিকাশে অন্যের উপদেশ গ্রহণ

আপনি ভবিষ্যতে কী করতে এবং কোন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠন করতে চান। সেই সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আপনার প্রতিভা, ঝোঁক ও চিন্তা-চেতনার পাশাপাশি আপনার শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতিজনদের উপদেশও গুরুত্ব পালন করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন :

الدين النصيحة. قلنا لمن؟ قال لله ولرسوله ولكتاببه ولاإمة المسلمين و عامتهم

দীন হচ্ছে উত্তম উপদেশ। আমরা প্রশ্ন করলাম, কার জন্য (উপদেশ)? রাসূলে কারীম সা: বললেন, আল্লাহর জন্য, তার কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলমানদের নেতাদের জন্য এবং সাধারণভাবে সকল মানুষের জন্য ৷

উল্লিখিত হাদীসের আলােকে বােঝা যায় একে অপরকে উত্তম উপদেশ দান করা মুমিন জীবনের বৈশিষ্ট্য। একজন মুসলিম অপর মুসলিম ভাই-বােনের ক্যারিয়ার গঠন সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া নেকীর কাজ। ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও উপদেশ নিতে পারে। উপদেশদাতাদেরও ব্যক্তির বাস্তব অবস্থা পর্যালােচনা করেই উপদেশ দেওয়া দরকার। কেউ উপদেশ চাইলেই তাকে উপদেশ দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে উপদেশ দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালাে।

উপদেশ গ্রহণকারী নানা জন থেকে নানা ধরনের উপদেশ পেতে পারেন। সকলের পরামর্শ গুরুত্বের সাথে শােনা দরকার। কোনাে উপদেশ অবাস্তব মনে হলেও উপদেশদাতার প্রতি ক্ষেপে না গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আবার বেশি উপদেশ গ্রহণ করে নানা জন মুনির নানা মত শুনে একেকবার একেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠনের চেষ্টা করা উচিত নয়।

সকলের পরামর্শ গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে জীবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যক্তিকেই গ্রহণ করতে হবে। প্রতিভা বিকাশে আগ্রহী ব্যক্তিকে যেসব গুণের অধিকারী হতে হয় ৷

শেষ কথা

সুপ্রিয় পাঠক! আমাদের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে কমেন্ট ও শেয়ার করে হাজারো মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারেন ৷ আপনার কোন মন্তব্য বা পরামর্শ থাকলে তাও জানাতে পারেন ৷ নিচের কমেন্ট বক্সে লিখতে পারেন নির্দ্বিধায় ৷ আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন ৷ জাযাকাল্লাহ খাইরান ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *